ডালার সাশ্রয়ে যখন দেশ আমদানিতে লাগাম টানছে; তখন রফতানি লক্ষ্য নিয়ে দেশে উৎপাদিত সৌর ও তড়িৎ বিদ্যুত চালিত স্মার্ট গাড়ির মেলা বসিয়েছে বাঘ ইকো মোটরস। আর এর মাধ্যমে চার বছরের পরিশ্রমের পর বাঘ ইকো মোটরসের ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ ট্যাগলাইনে শুক্রবার (৪ নভেম্বর) বেলা ১১টা থেকে শুরু হয় দেশে তৈরি সম্পূর্ণ আইওটি ভিত্তিক দেশের প্রথম সৌরবিদ্যুৎ চালিত টু হুইলার, থ্রি হুইলার এবং ফোর হুইলার ইলেকট্রিক বাহন বাজারজাতকরণ। শনিবার সন্ধ্যা ৮টা পর্যন্ত চলবে এই মেলা।
মেলায় হাজির করা হয় ৫টি মডেলের গাড়ি। দেয়া হচ্ছে ৫ বছরের রিপ্লেসমেন্ট ওয়ারেন্টি। নির্মাতাদের প্রত্যাশা, সৌরশক্তির বাঘ গাড়ির খরচ সাধারণ গাড়ির ৬টাকা থেকে নেমিয়ে আনবে ৬ পয়সায়! লক্ষ্য ৫ বছরের মধ্যে ১০ লাখ গাড়ি বিক্রির। প্রথম দিনেই বিক্রি হয়েছে ১৫০০ ওয়াটের লাল রঙের আইওটি কার ‘বাঘ ৫২’।

দেশীয় প্রযুক্তির মেড ইন বাংলাদেশ যাত্রাকে অনুপ্রাণিত করতে বিকেলে রাজধানীর প্যানপ্যাসিফিক সোনার গাঁ হোটেলের সুরমা হলে মেলার বিক্রয় ও প্রদর্শনী কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার।
বাঘ ইকো মটরসের প্রেসিডেন্ট কাজী জসিমুল ইসলাম বাপ্পি‘র সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অভিনেতা আফজাল হোসেন, প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাহিদ নওরীণ জাহান, এক্সিম ব্যাংকের পরিচালক আব্দুল্লাহ আল জহির এবং সফটওয়্যর প্রকৌশলী মঞ্জুর আহমেদ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোস্তাফা জব্বার আজকের দিনটাকে অনন্য একটা দিন হিসেবে অভিহিত করেন। কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন, আজ শহরে যান্ত্রিক বাঘ এলো। আইওটিভিত্তিক গাড়ির জন্য তিনি মুগ্ধতা প্রকাশ করে বলেন, প্রযুক্তির মতো জনবান্ধব আর কিছু নেই। এটা দেখে মনে হচ্ছে আমরা পঞ্চম শিল্পবিপ্লবে পা রাখলাম।
মন্ত্রী ডিজিটাল প্রযুক্তিকে দিন বদলের হাতিয়র উল্লেখ করে বলেন, প্রযুক্তির চাইতে জনবান্ধব আর কিছু নেই। আমরা যত কিছুই করি, প্রযুক্তি ছাড়া আমাদের পক্ষে মানুষের জীবনকে সহজ-সরল এবং কষ্টহীন করার কোনো উপায় নেই। সেই লক্ষ্য থেকেই বাঘ ইকো মোটরস লিমিটেড শূন্যতার মধ্য থেকে উঠে এসেছে। এটি কেবল বাংলাদেশের মানুষের কাছে উদ্ভাবনের প্রতীক হিসেবে থাকবে না, দক্ষিণ এশিয়া কিংবা সারা পৃথিবীর মানুষের কাছে উদ্ভাবনের প্রতীক হয়ে থাকবে।’
এই গাড়ির উদ্বোধনকে যুগান্তকারী উল্লেখ করে ডিজিটাল প্রযুক্তিতে বাংলা ভাষার এই উদ্ভাবক বলেন ‘আজ আমার মনে হলো আমরা পঞ্চম শিল্প বিপ্লবে পা দিলাম। পৃথিবীর কাছে বুক ফুলিয়ে আমরা বলতে পারবো তোমরা প্রস্তুত হও, বাংলাদেশ তোমাদের নেতৃত্ব দিচ্ছে।’
মন্ত্রী আরো বলেন, ‘‘আমরা ডিজিটাল প্রযুক্তির চর্চা করছি। এই চর্চার নানাবিধ প্রয়োগ যেখানে-সেখানে দেখতে পাচ্ছি। নিজের চোখে যখন ‘বাঘ ইকো মোটরস’-এর পণ্যগুলো দেখলাম, আকাশ থেকে পড়েছি। এর মাধ্যমে ৬ টাকার ভাড়া ৬০ পয়সায় নেমিয়ে আনবে, এটা অবিশ্বাস্য। কেউ কি ভাবতে পারে, ৬ পয়সায় কোথাও যাতায়াত করতে পারবো! এটি একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।’’
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, পরিবেশবান্ধব এই ইলেকট্রিক ভেহিকেলগুলো চার্জ দেওয়ার জন্য অচিরেই দেশজুড়ে চার্জিং স্টেশন স্থাপন করা হবে।
গাড়ির বিশেষত্ব তুলে ধরে বলা হয়েছে, দেশীয় প্রযুক্তিতে উদ্ভাবিত এই বৈদ্যুতিক গাড়িগুলোতে আছে ইন্টারনেট সুবিধা, জিপিএস ট্রেকিং, মোবাইল ফোন চার্জিং সুবিধা। গাড়িগুলোতে ব্যবহার করা হয়েছে কোম্পানির নিজস্ব ডাটা সেন্টার। এতে থাকা প্যানিক বাটন চালক ও আরোহীকে বাড়তি নিরাপত্তা দেবে। চালক বা যাত্রী বিপদে পড়লে এই বাটন চেপে তাৎক্ষণিকভাবে সাহায্য চাইতে পারবেন।

এছাড়াও রয়েছে ২৪ ঘন্টা ভিডিও মনেটরিং, ব্যাটারি ম্যানেজমেন্ট এবং চার্জিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম। গাড়িগুলোতে চার্জ দেওয়ার জন্য অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করা যাবে না। যদি এর চালক অবৈধভাবে চার্জ দেওয়ার চেষ্টা করে তবে এতে থাকা আইওটি ডিভাইসের মাধ্যমে বাঘ ইকো মোটরসের ডাটা সার্ভারে খবর চলে যাবে।
সৌর বিদ্যুৎ ও লিথিয়াম ফসফেট চালিত বাঘ ইকো মটরস উদ্ভাবিত এই গাড়ি নিয়ে উদ্যোক্তা বাপ্পি জনান,বাঘ ইকো মটরস অদূর ভবিষ্যতে ভারতের ৭টি অঙ্গরাজ্যেসহ নেপাল ও আফ্রিকাতে রপ্তানি করা হবে। আমাদের ৪ হুইলার গাড়িগুলো ১ চার্জে ১৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত যাবে।
ডিজিবাংলাটেক/আইএইচ